ঢাকা,রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

ভারতে ১০ শতাংশ গম উৎপাদন কমার আশঙ্কা

চলতি বছর ভারতে গম উৎপাদন সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ কমতে পারে। শীর্ষস্থানীয় একটি বাণিজ্যিক সংস্থা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সম্প্রতি এ তথ্য জানায়। এদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দুই মাস ধরেই স্থানীয় বাজারে গমের দাম ব্যাপক হারে বাড়ছে।

খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টেনে ধরার পাশাপাশি সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর প্রচেষ্টা চালচ্ছে নয়াদিল্লি। এ পরিস্থিতির মধ্যে দ্বিতীয় বছরের মতো গম উৎপাদন কমে গেলে এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার ওপর আবহাওয়ায় এল নিনো পরিস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোলার ফ্লাওয়ার মিলারস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রমোদ কুমার এস বলেন, ‘‌বাজারে গমের সরবরাহ অন্তত স্বল্প। ‍উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ কোটি ১০ লাখ টন থেকে ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে।’

সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর গম উৎপাদন ১১ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। এর আগের বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৭৭ লাখ টন। ভারত প্রতি বছর ১০ কোটি ৮০ লাখ টন গম ব্যবহার করে।

কৃষকরা গত মার্চেই জমি থেকে গম সংগ্রহ শুরু করেন। চলতি মাসে তারা বেশির ভাগ গম রাষ্ট্রীয় এজেন্সি ও বেসরকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। এরই মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরবরাহ কমে গেছে। এর অর্থ হলো কৃষি মন্ত্রণালয় উৎপাদন নিয়ে বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি আশাবাদী প্রাক্কলন করেছে।

নয়াদিল্লিতে দুই মাসে গমের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২৪ হাজার ৯০০ রুপিতে। এ মূল্যবৃদ্ধি রুখতে উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। গমের মজুদ সীমিত করার নীতিমালা নেয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় উৎপাদন নিয়ে যে প্রাক্কলন করেছে তা যুক্তিসঙ্গত নয়। মুম্বাইভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তীব্র দাবদাহ এবং এপ্রিলে অসময়ে বৃষ্টিপাতের বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় বিবেচনায় না নিয়েই উৎপাদন নিয়ে প্রাক্কলন করেছে। গত বছর ভুল প্রাক্কলনের কারণে রফতানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। এ বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সরকার শুল্ক মুক্ত আমদানি চালু করতে বাধ্য হতে পারে।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের  দ্বিতীয় শীর্ষ গম ব্যবহারকারী দেশ। ২০২২ সালের মে মাসে দেশটি গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমন সময় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে, যখন গরম আবহাওয়ায় উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন কৃষকরা। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই সময় বৈশ্বিক ঘাটতি মোকাবেলায় ভারত লক্ষণীয় মাত্রায় রফতানি বাড়াচ্ছিল।

ভারত সরকার নতুন মৌসুমে কৃষকদের থেকে ২ কোটি ৬২ লাখ টন গম কিনেছে। প্রাথমিকভাবে ক্রয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার টন। এটি নিম্নমুখী উৎপাদনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাঠকের মতামত: