ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে রাশিয়ার স্বর্ণ মজুদ

রাশিয়া চলতি বছরের নভেম্বরে স্বর্ণ মজুদে নতুন রেকর্ড গড়েছে। মাসটিতে রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের মূল্য ১৫ হাজার ১৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে ব্যাংক অব রাশিয়া। খবর আরটি।

রাশিয়ায় অক্টোবরের চেয়ে নভেম্বরে ২ দশমিক ২ শতাংশ বা ৩১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের স্বর্ণ মজুদ বেড়েছে। তবে অর্থমূল্যে মজুদ বাড়লেও পরিমাণগত দিক থেকে স্বর্ণের মজুদ বাড়েনি ব্যাংক অব রাশিয়ার। তথ্য বলছে, রাশিয়ার মজুদকৃত স্বর্ণের পরিমাণ টানা দুই মাস ধরে কমছে। নভেম্বরেও ১৬ টন কমে মজুদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১৫ টনে।

ডিসেম্বরে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাশিয়ার ৫৯ হাজার ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে রয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রাই ৪১ হাজার ২২৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের।

ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করায় ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার অর্ধেক বৈদেশিক রিজার্ভ আটকে দিয়েছে পশ্চিমা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। তবে স্বর্ণ ও চীনের ইউয়ানসহ কিছু বিদেশী মুদ্রা রাশিয়ার অভ্যন্তরেই ছিল।

বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো নতুন আইনি প্রক্রিয়া প্রণয়নে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য রাশিয়ার বাজেয়াপ্ত অর্থ ব্যবহার করা হবে। চলতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটি স্বর্ণের মজুদের দিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেসকো পরিচালিত জরিপে ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানায়, রাশিয়ার প্রায় অর্ধেকের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত করার পর স্বর্ণ আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে ৭ অক্টোবরে হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষ শুরু হলে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বাড়তে শুরু করে। ৪ ডিসেম্বর মূল্যবান ধাতুটির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১১১ ডলার ৩৯ সেন্টে ওঠে। সর্বশেষ গতকালও আউন্সপ্রতি ধাতুটির দাম ছিল ২ হাজার ডলারের ওপরে।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈদিক মন্থরতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্পদ ধরে রাখার নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণ ক্রয় বাড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানিয়েছে, অক্টোবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৪২ টন স্বর্ণ কিনেছে।

অন্যদিকে চলতি বছর স্বর্ণ উত্তোলন বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে গ্লোবাল ডাটা। ঘানা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন বৃদ্ধি এক্ষেত্রে মূল প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে। মাইনিং টেকনোলজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ সালে স্বর্ণ উত্তোলনের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল। তবে ২০২৩ সালে মূল্যবান এ ধাতুর উত্তোলনের পরিমাণ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১২ কোটি ১২ লাখ আউন্সে।

এনজে

পাঠকের মতামত: