ঢাকা,রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের দাম কমেছে নভেম্বরে

বিশ্বব্যাপী নভেম্বরে খাদ্যশস্যের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। চলতি সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। মূলত গম ও ভুট্টার দাম কমায় খাদ্যমূল্য সূচক অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে ৩ শতাংশ কমেছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

এফএও জানিয়েছে, ভুট্টার ব্যাপক দরপতনের ফলে নভেম্বরে মোট শস্যের গড় আন্তর্জাতিক দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে গমের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিভিন্ন অঞ্চল ও বাজারে চালের দামে উত্থান-পতন গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের চালের মূল্য সূচক নভেম্বরে অপরিবর্তিত ছিল।

এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক নভেম্বরে আরো নিম্নমুখী হতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল উদ্ভিজ্জ তেলের উচ্চমূল্য। গত মাসে উদ্ভিজ্জ তেলের গড় পয়েন্ট ছিল ১২০ দশমিক ৪।

অন্য এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, চলতি বিপণন বছরে খাদ্যশস্যের আবাদ ও সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের রেকর্ড ফলনের চেয়েও এ বছর ১ কোটি ৩ লাখ টন বেশি খাদ্যশস্য ফলনের প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৮২ কোটি ৩০ লাখ টনে, ২০২২ সালের তুলনায় যা দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

বিশ্বে গম উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাধারণত বড় প্রভাবকের ভূমিকা রাখে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন অঞ্চল ও তুরস্ক। ভুট্টা উৎপাদনে বড় অবদান রাখে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় ভুট্টার ফলন কিছুটা নিম্নমুখী হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেক্সিকোয়ও ভুট্টার ফলন কমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলন কমার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এফএও ২০২৩-২৪ মৌসুমে খাদ্যশস্যটির দাম আগের মৌসুমের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

গমের উচ্চমূল্যের পূর্বাভাসের কারণে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় ২০২৪ সালের শীতকালীন গমের ফসলের রোপণ চলছে। তবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশগুলোয় কিছুটা মন্থর গতিতে আবাদ কার্যক্রম চলছে। যদিও আর্জেন্টিনায় আবাদের কার্যক্রম বেড়েছে।

বিশ্বে ২০২৩-২৪ মৌসুমে খাদ্যশস্যের ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ২৮ লাখ ১৩ হাজার টনে, যা আগের ২০২২-২৩ মৌসুমের চেয়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুম শেষে বিশ্বে খাদ্য মজুদের পরিমাণ মৌসুমের শুরুর তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে, যা হবে মজুদের নতুন রেকর্ড। ২০২৩-২৪ মৌসুমে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ হবে ব্যবহারের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।

এনজে

পাঠকের মতামত: