ঢাকা,রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক দাম

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। বছর শেষে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৮৬ ডলারে নামবে বলে জানিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংকটি। আগের পূর্বাভাসে যা ছিল ৯৫ ডলার। সে হিসাবে দাম কমবে প্রায় ১০ শতাংশ।

এর আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ডিসেম্বর নাগাদ গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নামবে বলে জানিয়েছিল গোল্ডম্যান স্যাকস। সবশেষ পূর্বাভাসে তা কমিয়ে ৮১ ডলার ধরা হয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সৌদি আরব অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ব্যাপক মাত্রায় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর পরও বাজারে জ্বালানিটির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে। কারণ চীনে যে হারে চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল সে হারে বাড়ছে না। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বেড়েই চলেছে। এসব কারণেই বছরের শেষ নাগাদ জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল গোল্ডম্যান স্যাকস। আশঙ্কা করা হচ্ছিল বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার সংকুচিত হয়ে আসতে পারে। দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকটি জানায়, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এ ধারণা থেকে বের হয়ে এসেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলো প্রতি মাসেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাচ্ছে। মে মাসের শেষ দিকে ও জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে জোটটি এ প্রক্রিয়া আগামী বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ওপেকের শীর্ষ উত্তোলক সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটি আগামী জুলাইয়ে স্বেচ্ছায় দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমাবে। সে হিসাবে দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ নামবে ৯০ লাখ ব্যারেলে। জুলাইয়ের পরও এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা জানান, নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে প্রতিদিন আট লাখ ব্যারেল করে সরবরাহ আসতে পারে। বিষয়টি জ্বালানি তেলের বাজারকে নিম্নমুখী রাখতে সহায়তা করবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর অনেক কোম্পানিই রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার অর্থ ও লজিস্টিকস খাতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর পরও দেশটির সরবরাহ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এনজে

পাঠকের মতামত: