ঢাকা,রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলছে না ভারত

ভারতে চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হলেও হলেও গম রফতানি থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাচ্ছে না দেশটি। অন্তত ফসল তোলার সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা। এমনটাই দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বৈশ্বিক কৃষি তথ্য নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে। খবর দ্য ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

এ বিষয়ে ইউএসডিএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাসে নীতিনির্ধারকরা উদ্বিগ্ন। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট উষ্ণ স্রোতকে মূলত এল নিনো বলে। এর প্রভাবে বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এল নিনো ভারতের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এমন পরিস্থিতিতে গম রফতানির চেয়ে দেশটির রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা করা নিয়ে কাজ করছে সরকার। যাতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও গমের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ফসল উত্তোলন, এমএসপি সংগ্রহ ও প্রত্যাশিত বাজারমূল্যের মধ্যে সমন্বয় যদি অনুকূলে থাকে, তাহলে গমের ওপর থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেয়া হতে পারে।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভারতে গম উৎপাদন ১০ কোটি ৮০ লাখ টনে উত্তীর্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গমের দাম প্রতিযোগিতামূলক। তার পরও ২০২৩-২৪ মৌসুমে গম রফতানি হবে মাত্র ১০ লাখ টন। আর এসব গম পাঠানো হবে শুধু প্রতিবেশী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। সেসব দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। চলতি বিপণন বছরে ভারত ৫৫ লাখ টন গম সরবরাহ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দেশটিতে গমের মজুদ ৯২ লাখ থেকে সামান্য বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। তার পরও এটি ২০২১-২২ মৌসুমের চেয়ে যথেষ্ট কম বলে মনে করছে ইউএসডিএ। ওই মৌসুমে মজুদ ছিল ১ কোটি ৯৫ লাখ টন। চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ। ফলে ভারতের রফতানিবিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলবে আন্তর্জাতিক বাজারে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই গম রফতানিকারক দেশ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে শস্যটির আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ে। তার ওপর ভয়াবহ খরায় ব্যাহত হয় আর্জেন্টিনার উৎপাদনও। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরই গম রফতানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে খাদ্যপণ্যের অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দেয়া।

কিন্তু গত বসন্তে শুষ্ক আবহাওয়া ও দাবদাহের কারণে ২০২২-২৩ মৌসুমে গম উৎপাদন কমে ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে নেমে যায়। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ টন। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতে গমজাত খাদ্যপণ্যের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। বিপরীতে রফতানি ৮০ লাখ থেকে কমে নেমে আসে ৫৯ লাখ টনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মে মাসে গম রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। কিন্তু এর পরও চলতি বছরের প্রথম মাসেই স্থানীয় বাজারে শস্যটির দাম বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয় ৩৯৩ ডলারে। ফলে দেশটি গম রফতানিতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরো বাড়াতে যাচ্ছে। সরকার ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এপ্রিলে রফতানি নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিলের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হতে পারে।

পাঠকের মতামত: