ঢাকা,মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

পেরুর ৩০ শতাংশ তামা উত্তোলন ঝুঁকির মুখে

বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ তামা সরবরাহকারী দেশ পেরু। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় ফলে সংকুচিত হয়ে আসছে দেশটির তামা উত্তোলন। এরই মধ্যে ৩০ শতাংশ উত্তোলন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে তামার দাম লাফিয়ে বাড়ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অব্যাহত কমছে শিল্প ধাতুটির মজুদ। এ পরিস্থিতিতে পেরুর উত্তোলন কমে গেলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

শিল্প গ্রুপ এসএসপিই জানায়, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর দেশটির একটি তামা খনি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা সেখানে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। অন্যদিকে সড়ক অবরোধের কারণে একটি খনির সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য খনির কার্যক্রম গতিহীন। কারণ জ্বালানিসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করতে পারছে না এসব খনি।

উত্তোলন খাতের সঙ্গে জড়িতরা জানান, বিক্ষোভ পরিস্থিতি এবং ব্যাপক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তামা শিল্প। সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনার চেষ্টা চলছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

বিক্ষোভকারীরা ছয় সপ্তাহ ধরে পেরুর রাস্তাঘাট অবরোধ করে রেখেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পেড্রো কাস্টিলোর অভিশংসনের পরই বিক্ষোভ দানা বাঁধে। মধ্যবর্তী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবিতে  বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে। এখন পর্যন্ত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে সহিংসতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে পেরুর তামা খাতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ চিলিতে। দেশটির খনি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও। এছাড়া মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার সরকার মুনাফার বড় একটি অংশ দাবি করায় সেখানেও একটি খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তামার বৈশ্বিক মজুদ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা পেরুর ওপর বেশ ভালোভাবেই নজর রাখছেন। বৈশ্বিক তামা সরবরাহের এক-দশমাংশই আসে দেশটি থেকে। এছাড়া দস্তা ও রৌপ্যেরও শীর্ষ রফতানিকারক পেরু।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে পরিশোধিত তামার ঘাটতি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিনিয়োগস্বল্পতা, নতুন উত্তোলন প্রকল্পের অভাব, অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন এখন সংকটে। বাজারে চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ নেই।

ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাজারে ৩ লাখ ৮৪ হাজার টন তামার ঘাটতি দেখা দেয়, যা ২০২১ সালের একই সময়ের চেয়ে তিন হাজার টন বেশি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অক্টোবরে বিশ্ববাজারে ধাতুটির উদ্বৃত্ত ছিল ৬৮ হাজার টন। কিন্তু নভেম্বরে ৮৯ হাজার টনের ঘাটতি দেখা দেয়। নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত তামা উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ টন। আর ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ টন।

এনজে

পাঠকের মতামত: