ঢাকা,সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

রাজশাহীতে ৭২০ কোটি টাকার পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা

দেশে চলমান পেঁয়াজের ঘাটতি কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদে সরকার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার, উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ ‘এন-৫৩’ ও নগদ অর্থ প্রদান করে আসছে। বিভিন্ন সহায়তায় উৎপাদনও বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে রাজশাহীতে প্রায় ৭২০ কোটি টাকার পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে। সম্প্রতি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।

রাজশাহী কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ হিল কাফি জানান, এন-৫৩ হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন উন্নত জাতের পেঁয়াজবীজ। এ বীজ ভারতের দেরাদুন থেকে তিন বছর ধরে আমদানি করে কৃষকদের প্রণোদনাস্বরূপ দেয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৮ হাজার ৫০০ কেজি পেঁয়াজ বীজ সাড়ে আট হাজার কৃষকের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে।

বর্তমানে কমপক্ষে ১২-১৪ হাজার বিঘা জমিতে এ জাতের পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো ফলনও পেয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে মাঠেই কৃষকরা এ পেঁয়াজ ৩ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রি করছেন মণপ্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। খুচরা বাজারে ক্রেতারা কিনছেন ১২০-১৩০ টাকা কেজি। এরই মধ্যে রাজশাহীর অনেক হাটে-বাজারে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ গাছসহ বিক্রি হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজে ভালো লাভ দেখে অন্য কৃষকরাও এ জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘এখনো দ্বিতীয় পর্যায়ে লাগানো চারা থেকে উত্তোলিত না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলায় প্রায় ১২-১৪ হাজার বিঘায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে বা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি গড়ে ২০০ মণ ফলন হলে ১২ হাজার বিঘায় ফলন হবে ২৪ লাখ মণ। বর্তমানে এ পেঁয়াজ কৃষকরা মাঠ থেকেই ৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি করছেন। সে হিসেবে প্রায় ৭২০ কোটি টাকার পেঁয়াজের বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বাজারে যখন শীতকালীন পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে, তখন এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ মানুষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

এনজে

পাঠকের মতামত: