ঢাকা,শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

চার লাখ টন বাড়তে পারে আটা-ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য

২০২৩-২৪ রাশিয়া ও তুরস্ক বিপণন বছরে গমের আটা-ময়দা রফতানির পরিমাণ বাড়াতে পারে। দেশ দুটির রফতানি প্রবৃদ্ধির কারণে প্রান্তিকওয়ারি বাণিজ্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। চলতি বছর বৈশ্বিক গমের আটা বাণিজ্যের পরিমাণ চার লাখ টন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৪৫ লাখ টনে। চলতি মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে আইজিসি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন।

সর্বশেষ পূর্বাভাসে আটা বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। তার পরও পাঁচ বছরের গড় ১ কোটি ৪৯ লাখ ও ২০১৬-১৭ মৌসুমের রেকর্ড ১ কোটি ৭৬ লাখ টনের নিচে থাকবে। আইজিসি বলেছে, দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিও বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের চেয়ে চলতি বছর অঞ্চলটিতে দুই লাখ টন বেড়ে বাণিজ্যের আকার দাঁড়াবে ১১ লাখ টনে। আইজিসি প্রত্যাশা করছে, আর্জেন্টিনায় উৎপাদন বাড়ায় দেশটির প্রতিবেশী দেশগুলোয় রফতানি পুনরুদ্ধার হবে।

অন্যদিকে, সুদান ও সোমালিয়াসহ সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে আমদানির পরিমাণ ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। কেননা মৌসুমের প্রথম দুই মাসে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, তুরস্ক থেকে অঞ্চলটিতে রফতানির পরিমাণ প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানে স্থানীয় পর্যায়ে মিলিং কার্যক্রম বিকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশ দুটি গমের আটা আমদানিকারক হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। পূর্ব এশিয়া ও কমনওয়েলথভুক্ত স্বাধীন দেশগুলোয় গমের সরবরাহ বছরভিত্তিক চুক্তিতে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইজিসির তথ্যানুযায়ী, গমের আটা আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ইরাক অন্যতম। দেশটিতে গমের উৎপাদন বাড়ায় আমদানির পরিমাণ কমবে। বছরওয়ারি হিসাব বলছে, আটা আমদানির পরিমাণ চার লাখ টন কমে নামবে ১৭ লাখ টনে। কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরাকের অধিকাংশ গম আসে মূলত তুরস্ক ও রাশিয়া থেকে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ সিরিয়ায় গম আমদানি বাড়বে। মূলত কৃষকদের খাদ্য সংকট ও সীমিত সরবরাহের কারণে দেশটিতে গমের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। রফতানির দিক থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুমে তুরস্কের গম রফতানি ৫৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে, যা ২০২২-২৩-এর তুলনায় ছয় লাখ টন বেশি। আইজিসির তথ্যানুযায়ী, এটি মোট বৈশ্বিক সরবরাহের ৪০ শতাংশ। তুরস্ক এরই মধ্যে মৌসুমের প্রথম দুই মাসে ১১ লাখ টন গম সরবরাহ করেছে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল সাত লাখ টন। কাজাখস্তান ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২৫ লাখ টন গম রফতানি করবে বলেও আইজিসি সূত্রে জানা গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় তিন লাখ টন কম।

পাঠকের মতামত: