ঢাকা,শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

বিশ্ববাজারে ফের বাড়তির দিকে জ্বালানি তেলের বাজার

চলমান ‍ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল ব্যারেলপ্রতি জ্বালানিটির দাম বেড়েছে ৩ ডলারেরও বেশি। যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ায় দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

আইসিই ফিউচারসে সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৩ ডলার ১০ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৭ ডলার ৬৮ সেন্টে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ ডলার ২৬ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৬ ডলার শূন্য ৫ সেন্টে। উভয় বাজার আদর্শের গড় দাম প্রতি ব্যারেলে বেড়েছে ৩ ডলারের বেশি।

এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ‘‌মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে চলায় তেলের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।’

গত সপ্তাহে তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতায় ছিল। সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উচ্চ সুদহার লম্বা সময়ের জন্য বহাল রাখার খবরে বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যায়। এতে নিম্নমুখী প্রভাব তৈরি হয় জ্বালানি তেলের বাজারে। ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রয় সীমিত করেন তারা। ফলে চাহিদা কমায় চলতি বছরের মার্চের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন ঘটে গত সপ্তাহে। ব্রেন্ট বাজার আদর্শের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে গত শনিবার সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর উভয় দেশে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে এক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের প্রশংসা করেছে ইরান। ইসরায়েলও রাষ্ট্রীয়ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিশ্লেষক শৌল কাভোনিক রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‌জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের মতো নিকটবর্তী প্রধান তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোয় যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী ইরান কোনোভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানিটির ঘাটতি আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। কাভোনিক বলেন, ‘‌ইরান সংঘাতে জড়ালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ৩ শতাংশ কমে যাবে। আর এ সংঘাতের মাত্রা যদি হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববাজার ২০ শতাংশ ঘাতটির মুখে পড়বে।’

পাঠকের মতামত: