ঢাকা,মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

৫১ শতাংশ কমেছে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের মধ্যে খাদ্যশস্য রফতানি কমছে ইউক্রেনের। চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশটির রফতানি কমেছে ৫১ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্স।

কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় রফতানি কমেছে দেশটির। গত ১৭ জুলাই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে এটি আর নবায়নে সম্মত হয়নি রাশিয়া। মস্কো চুক্তিটি নবায়ন না করায় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে কিয়েভকে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে বিশ্বব্যাপী। ফলে ইউক্রেনের শস্য কিনতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এসব কারণে শস্য রফতানি কমেছে দেশটির।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশটির মোট ১৫ লাখ ৭০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার টন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ১০ হাজার টন।

রয়টার্স জানিয়েছে, ১ জুলাইয়ে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে ইউক্রেনের শস্য রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ টনে (২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। গত বছরের এ সময়ে ৭৫ লাখ টন রফতানি করেছিল দেশটি। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টন গম, ২৫ লাখ টন ভুট্টা ও ৫ লাখ ৯০ হাজার টন বার্লি রফতানি করেছে কিয়েভ।

মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ইউক্রেন ২০২১-২২ বিপণন বছরে ৭ কোটি ৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে রফতানি কমে যায় দেশটির। ২০২২-২৩ মৌসুমে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টন শস্য বিক্রি করেছে ইউক্রেন। মার্কিন কৃষি বিভাগের বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে রফতানি হার আরো কমে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৫ লাখ টনে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমের শুরু থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটি ৪৫ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করে। ২০২২ সালের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ টন। এ সময়ে গত বছরের তুলনায় রফতানি ছয় লাখ টন বাড়লেও সমস্যা দেখা দেয় চলতি সেপ্টেম্বর থেকে।

অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, আগস্টে রফতানি রুট হিসেবে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছিল দানিয়ুব নদীবন্দরগুলো। আগস্টে মোট রফতানির ৬৪ শতাংশই হয়েছে এসব বন্দর দিয়ে। রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো ও দানিয়ুব নদীতে শস্য অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করায় এসব রুট ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এনজে

পাঠকের মতামত: