ঢাকা,সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

বাড়তির দিকে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি

ইরানের জ্বালানি তেল রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। আগস্টে রফতানি বেড়ে দৈনিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। খবর তেহরান টাইমস।

ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি এমন সময় বাড়ছে, যখন ওপেক প্লাসের শীর্ষ উত্তোলক দেশ রাশিয়া ও সৌদি আরব বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে রফতানি ও উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে আনছে।

তথ্য বলছে, আগস্টের প্রথম ২০ দিনে দেশটি প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে, চলতি বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

ইরান চলতি বছর ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি বাড়াচ্ছে। এশিয়া বাজার সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। এ অঞ্চলে নতুন ক্রেতা খুঁজছে দেশটির জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলো। পাঁচ বছর আগে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর দেশটির রফতানি তলানিতে নেমে আসে। তবে সে তুলনায় বর্তমানে সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির ওপর দেয়া বিধিনিষেধ শিথিল করছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসভিবি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, আগস্টে ইরান প্রতিদিন ৩১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। উত্তোলন নিষেধাজ্ঞাপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আগস্টে চীন ইরানের কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটি থেকে সর্বোচ্চ আমদানি। বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চীন ইরানের কাছ থেকে গড়ে দৈনিক ৯ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে।

একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের বিকল্প বাজার হিসেবে এশিয়াকে বেছে নিয়েছে রাশিয়া। এ অঞ্চলে দেশটি ব্যাপক মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল রফতানি করছে। ফলে জ্বালানি তেল রফতানিতে দেশটির সঙ্গে ইরানের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। তার ওপর ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ তো রয়েছেই। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশটি গত তিন বছরে চীনের বাজারে রফতানি অন্তত তিন গুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছরের বাকি মাসগুলোয়ও চীনের বাজারে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের ওপরে জ্বালানি তেল রফতানি করবে ইরান, ২০২০ সালে যা ছিল দৈনিক ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল।

পাঠকের মতামত: