ঢাকা,মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

বিশ্ববাজারে সাত মাসের সর্বোচ্চে জ্বালানি তেলের দাম

বৈশ্বিক বাজারে সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে এসেছে জ্বালানি তেলের দাম। উত্তোলন কমানো ও সরবরাহ সংকটের শঙ্কা দামে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

আগামী মাস থেকে সৌদি আরব প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও এর মিত্ররা উত্তোলন কমানোর বিষয়ে মূলত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়াও ওপেক প্লাসের সদস্যদের সঙ্গে একই মত পোষণ করেছে। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বা ১ ডলার ৬৬ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছেছে। এর আগে এটি সেশনের সর্বোচ্চে প্রতি ব্যারেল ৮৮ ডলার ৭৫ সেন্টে পৌঁছেছিল। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ের পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) জ্বালানি তেলের দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। মার্চের পর এটিও সর্বোচ্চ।

প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ‘অর্থনীতি যে ধসে পড়ছে তা নয়। তবে চাহিদা যে ঊর্ধ্বমুখী সেটি নিশ্চিত। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যে কম, সে কঠিন সত্যকে অধিবাসীদের মেনে নিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা অনেক বেশি। গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ নিম্নমুখী। যে কারণে দাম বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ও বেতন না বাড়ার হার বাড়ছে। ফলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, সরকার হয়তো এখন আর সুদহার বাড়াবে না। এছাড়া চাহিদা পুনরুদ্ধারের বিষয়েও আশাবাদী সবাই।

ইউরো জোনের উৎপাদন খাতে যে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল, গত মাসে তা কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এর মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছিল যে অঞ্চলটির ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো হয়তো প্রাণ ফিরে পাবে। ওপেক ও আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা চীনের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেল আমদানির দিক থেকে দেশটি শীর্ষে রয়েছে। চলতি বছর চীনে জ্বালানির চাহিদা বাড়বে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে দেশটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে।

অন্যদিকে এর আগে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত মজুদ বৃদ্ধি ও ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমিয়ে আনার কারণেই মূলত জ্বালানিটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, দেশটিতে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ধারণার চেয়েও অনেক বড় পরিসরে কমেছে। বিপুল রফতানি ও পরিশোধন মজুদ কমার ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। ওই সময় প্রতিদিন ১ কোটি ৬ লাখ ব্যারেল করে মজুদ কমে যায়।

জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাস লম্বা সময় ধরেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমাচ্ছে। এর বাইরে জোটের শীর্ষস্থানীয় সদস্য সৌদি আরব প্রতি মাসে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমাচ্ছে। আগামী অক্টোবরেও উত্তোলন কমানোর এ নীতি বহাল রাখবে দেশটি। সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পাঠকের মতামত: