ঢাকা,সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

বিশ্ববাজারে ২১ লাখ টন চিনি ঘাটতির আশঙ্কা

বিশ্ববাজারে আগামী ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে ২১ লাখ ২০ হাজার টন চিনির ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সুগার অরগানাইজেশন (আইএসও)। আগামী অক্টোবরে এ মৌসুম শুরু হয়ে শেষ হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে।

এ বিষয়ে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে ফের চিনি উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উৎপাদন কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। দেশটিতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা থেকেই মূলত ঘাটতির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

প্রান্তিকভিত্তিক এক প্রতিবেদনে আইএসও জানায়, ২০২২-২৩ অর্থাৎ চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমে ৪ লাখ ৯৩ হাজার টনে নেমে আসতে পারে।

সংস্থাটি আরো জানায়, আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে গত এপ্রিলে চিনির দাম বেড়ে এক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে ভোগ্যপণ্যটির দামে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে তিন মাসের মধ্যে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

আগামী মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৭ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টনে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টন। অর্থাৎ আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমবে। তবে পণ্যটির ব্যবহার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। মূলত স্থানীয় বাজারে দাম এবং বিশ্ববাজারে প্রাপ্যতায় ঘাটতি ব্যবহার কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

আইএসও জানায়, বৈরী আবহাওয়া, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয়বৃদ্ধিসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় চলতি মৌসুমে ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ইউরোপের চিনি উৎপাদন আশঙ্কার চেয়েও অনেক বেশি কমতে পারে। ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক। কোটার ভিত্তিতে দেশটি চিনি রফতানি করে। আগামী মৌসুমে ভারত চিনি রফতানি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ খবর প্রকাশের পর চিনির দাম বাড়ে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

ভারতে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে চিনি উৎপাদন আরো কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ২৮ লাখ টনে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রধান প্রধান প্রদেশে আখ উৎপাদন কমে গেছে। এ কারণে ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইসমা) উৎপাদন পূর্বাভাস আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়েছে।

এদিকে শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে এখনো চিনি মজুদ নিম্নমুখী। মূলত বৃষ্টির কারণে দেরিতে আখ সংগ্রহ শুরু করায় চিনি উৎপাদনেও বিলম্ব হয়েছে, যা মজুদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ইউরোপ, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন ও মেক্সিকোয়ও উৎপাদনে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

এনজে

পাঠকের মতামত: