ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

রাশিয়ার গম রফতানি বেড়েছে ১৬ লাখ টন

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের মধ্যে পাহাড়সম পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া গত মাসে বিশ্ববাজারে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ করেছে। রাশিয়ান গ্রেইন ইউনিয়ন (আরজিইউ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, জুলাইয়ে রাশিয়া ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি করে। এর মধ্যে গম ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টন, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শস্যটির রফতানি বেড়েছে ১৬ লাখ টন।

রাশিয়ান গমের শীর্ষ তিন ক্রেতা দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর। এর মধ্যে সৌদি আরবে ৫ লাখ ৭৮ হাজার, তুরস্কে ৫ লাখ ১৮ হাজার ও মিসরে ৪ লাখ ৬৭ হাজার টন গম রফতানি করা হয়। এছাড়া ইসরায়েলে ৩ লাখ ৪৫ হাজার, বাংলাদেশে ২ লাখ ২২ হাজার, তানজানিয়ায় ৯৪ হাজার ও সুদানে ৬৮ হাজার টন।

আরজিইউর বিশ্লেষক বিভাগের পরিচালক ইলিনা তুরিনা বলেন, ‘‌লাতিন আমেরিকার দেশগুলো রাশিয়ান গমের নতুন ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ব্রাজিলে ৬২ হাজার ও পেরুতে ৪৯ হাজার টন গম রফতানি করা হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিল ও পেরু রাশিয়া থেকে কোনো গম আমদানি করেনি।’

আরজিইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে রাশিয়া সব মিলিয়ে ৩৩টি দেশে গম রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময় রফতানি করা হয়েছিল ২৬টি দেশে।

রাশিয়া প্রতি বছর ১৩ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ৫ কোটি ৫০ লাখ টন রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দেশটির। রাশিয়ার উপকৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুট এমনটা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ রাশিয়া থেকে খাদ্যশস্য কিনতে অস্বীকৃতি জানালেও দেশটি খুব ভালোভাবেই রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ক্রেতা দেশের সংখ্যা কমে গেলেও বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি আমরা। আমরা এখন বেশি দেশে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছি না, বরং শক্তিশালী অংশীদারত্ব তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছি।’

কৃষিমন্ত্রী দিমিত্রি পেট্রুশেভ বলেন, ‘‌চলতি বছর খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ কোটি ৩০ লাখ টনে। এ সময় মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টনে।

পাঠকের মতামত: