ঢাকা,মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানি কমিয়েছে চীন

অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানির পরিমাণ কমিয়েছে চীন। ৩৩ মাসের মধ্যে মে মাসে দেশটি থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে কয়লা আমদানি করেছিল বেইজিং। গ্রীষ্মের গরমের মধ্যে উচ্চমানের তাপীয় কয়লার আকর্ষণীয় দাম ও পরিষেবা খাতে জোরালো চাহিদা থাকা সত্ত্বেও জুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে চীন। খবর রয়টার্স।

এ বিষয়ে দেশটির শুল্ক প্রশাসনের তথ্য বলছে, জুনে মোট কয়লা আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টন, যার মধ্যে ৪৬ লাখ ১০ হাজার টন ছিল তাপীয় কয়লা এবং ২ লাখ ১৭ হাজার ২৭৫ টন ধাতব কয়লা। জুনে আমদানির পরিমাণ মে মাসের ৫৪ লাখ ২০ হাজার টনের চেয়ে কম এবং যা ২০২০ সালের আগস্টের সমান।

চীনের পাওয়ার প্লান্টগুলোয় উচ্চবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে অস্ট্রেলীয় কয়লা ব্যবহার করা হয়। জুনে চীনজুড়ে প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া দেখা দেয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ইউরোপ ও অন্যান্য এশীয় দেশে চাহিদা কম থাকায় অস্ট্রেলীয় কয়লার দাম কিছুটা কমেছে। ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ সরবরাহে অস্ট্রেলীয় কয়লার কদর আরো বেড়েছে।

রেফিনিটিভ ও কেপলারের তথ্য বলছে, গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় জুলাইয়ে চীনে ৭০ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি অস্ট্রেলীয় কয়লার প্রয়োজন পড়তে পারে।

অন্যদিকে শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চীনে রাশিয়ান কয়লা আমদানি জুনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ছুঁয়েছে। নিম্নমানের কয়লা সরবরাহকারী ইন্দোনেশিয়া থেকেও মে মাসের তুলনায় জুনে আমদানি কমিয়েছে বিশ্বর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, মঙ্গোলিয়া থেকে জুনে ৫২ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে চীন, যা আগের মাসের ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টন থেকে বেশি।

চীনে লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে কয়লা উত্তোলন। এতে দেশটির কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে গৃহস্থালিগুলোয় ব্যাপক বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। আর বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়ছে কয়লার চাহিদাও।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এনবিএস) দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনে ২১৯ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উত্তোলন ১১ শতাংশ বেড়েছে। দৈনিক উত্তোলনও ঊর্ধ্বমুখী।

এনজে

পাঠকের মতামত: