ঢাকা,শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

বিমায় প্রতারণা বন্ধে প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিচ্ছি: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

‘আমার জীবন আমার সম্পদ, বিমা হবে নিরাপদ’ এই স্লোগান আজ পালিত হবে বিমা দিবস ২০২৩। দিবসটি নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী কথা বলেছেন দেশের অন্যতম নিউজ পোর্টাল সানবিডির সাথে। তার কথার চুম্বুক অংশ তুলে ধরা হলো।

মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, বিমা খাতে শতভাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে প্রতারণা বন্ধে বড় ভূমিকা রাখা যাবে। প্রযুক্তির ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে পারলে বিমা দাবীও শতভাগ দেওয়া যাবে। এতে করে বিমা খাতের উপর গ্রহকদের আস্থা কয়েকগুন বাড়বে। সম্প্রতি সানবিডির সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিমা সম্পর্কে আমাদের শিক্ষা ও সচেতনতার যথেষ্ট অভাব আছে। পাশাপাশি সময়মতো বিমা দাবি পরিশোধ করতে না পারার চরম ব্যর্থতাও রয়েছে। ফলে জনগনের মনে বিমা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনাস্থা। এতে আগের তুলনায় বিমা গ্রাহকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে এটা সত্যি কথা।

জয়নুল বারী ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের এই খাতে অনেকেই কাজ করেন। কিন্তু বিমা শিক্ষায় শিক্ষিত জনবলের যথেষ্ট অভাব। আবার কিছু কর্মকর্তা কোড অব কন্ডাক্ট ভেঙে, মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ ভুল পলিসি গ্রহণ করে প্রতারণার জালে আটকা পড়েছেন। এই প্রতারণা বন্ধের জন্য প্রয়োজন বিমা খাতে শতভাগ প্রযুক্তির ব্যবহার। সরকার এই বিষয়টি নিয়ে অনেক কাজ করছে। আশা করছি এর মাধ্যমে বিমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন,‘আমরা বিমাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার মানও নিম্নমানের। এতে গ্রাহকেরা কাছে বিমার সুবিধা ঠিকমতো পৌঁছানো যাচ্ছে না। মানুষ বিমার বিকল্প হিসেবে অন্য দিকে ঝুঁকছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে বিমা খাতের গ্রাহকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমছে। আমরা ডিজিটাল মাধ্যমে এসব প্রচারণা চালানোর জন্য চিন্তা করেছি।’

মোটরযান বিমা নিয়ে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বলেন, যানবাহনের বিমায় একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। ৬০ এর ২ ধারার আইন অনুযায়ী, দেশে মোটরযানের বিমা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিমা না করলে কোন শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। ফলে মানুষ ধরেই নিয়েছে মোটরযানের বিমা না করলেও সমস্যা নেই। আমরা এই ব্যাপারটাতে বিশেষ গুরত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি থার্ড পার্টি বিমা পলিসিও গ্রহণযোগ্য আকারে তৈরি করে আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরবো।

‘বিমার প্রিমিয়াম দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ আছে’।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে বিমা খাতে প্রিমিয়াম ও বিমা দাবি নিষ্পত্তির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এ সময়ে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মানুষের আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বিমার প্রিমিয়াম দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। বিমা দাবির সময়মতো পরিশোধ করা দেশের বিমা খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ।

বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য গ্রাহকদের স্বার্থ নিশ্চিত করা। যাইহোক, শিক্ষিত লোক, দক্ষ জনবল এবং বিমা খাতে সম্পূর্ণরুপে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে সুষ্ঠুভাবে চালানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য। জাতীয় বিমা দিবস সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় বিমা দিবস পালনের মাধ্যমে বিমার প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

যদি আমাদের মধ্যে কেউ দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু বা সম্পত্তির ক্ষতির বিরুদ্ধে বিমা করা হয়, তাহলে আমরা যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাব তা অনেক বেশি প্রয়োজন হতে পারে। সেই সময় আমি বা আমাদের পরিবারের দ্বারা। বিমা কোম্পানিগুলোও আমাদের প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে এবং পুনরায় বিমা করে। এভাবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিমার প্রসার ঘটবে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ বিমার আওতায় আসবে। দাবি নিষ্পত্তি বিলম্ব এই খাতের মূল সমস্যা।

এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী ভূমিকা পালন করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে, আমরা গ্রাহকদের সময়মতো বিমা দাবি নিশ্চিত করতে চাই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা একটি সেল এবং একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছি যা শুনানির মাধ্যমে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মোকাবিলা করার জন্য। এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার জন্য আমরা একটি হটলাইন নম্বর (১৬১২০) চালু করেছি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও টাকা পাচ্ছেন না এমন গ্রাহকের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ কিছু কোম্পানি নজরদারিতে রয়েছে। বছরের শেষে, আমরা দাবি নিষ্পত্তির অভিযোগ সমাধানের হারও গণনা করি।

 

পাঠকের মতামত: