ঢাকা,বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

উত্তাল সমুদ্র, খালি হাতে তীরে ফিরতে হলো জেলেদের

গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত নিম্নচাপের কারণে ফের সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে তীরে ফিরছে মাছ ধরার শতশত ট্রলার।

বুধবার পটুয়াখালীর বড় দুটি মৎস্যবন্দর আলীপুর ও মহিপুর ঘাটে জেলেরা আশ্রয় নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলেরা জানান, গত ২৩ জুলাই রাতে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকারে নামলে তার ঠিক দুই দিনের মাথায় সমুদ্র উত্তাল হলে ২৫ জুলাই বিকেল থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে আসেন জেলেরা। এরপর গত শুক্রবার ফের মাছ শিকারে সমুদ্রে যান তারা। তবে তার তিন দিনের মাথায় বৈরি আবহাওয়ার প্রভাবে আবারও ফিরে আসতে হয়েছে ছেলেদের। এতে একদিকে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে জেলেদের পেশা।

আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, স্থানীয় জেলে ছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, মোংলা, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলেরা আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় সেখানে আশ্রয় নেন। জেলেদের পদচারণায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মুখর থাকলেও তাদের মুখ মলিন। জেলেরা বলছেন, বছরের বেশিরভাগ সময়ে এভাবে অবরোধ আর আবহাওয়া খারাপ হলে তাদের এ পেশায় টিকে থাকা দায় হয়ে যাবে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জয়দেব কবিরাজ বলেন, গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৩ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: