ঢাকা,শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

শ্রীলংকায় ভারতের পণ্য বাণিজ্য তলানিতে

শ্রীলংকায় চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট প্রভাব ফেলেছে ভারতের বাণিজ্য খাতেও। দ্বীপ রাষ্ট্রটি পেঁঁয়াজ ও চিনিসহ ভারতীয় কৃষিপণ্যের অন্যতম শীর্ষ রফতানি গন্তব্য। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার পর থেকে বেশির ভাগ রফতানিকারকই শ্রীলংকায় রফতানি বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ আবার পেমেন্ট আটকে যাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে শ্রীলংকা থেকে ভারতের পণ্য রফতানি আয় এসেছে ৫২০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য, ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ, চিনি, পেঁয়াজ এবং আঙ্গুর শ্রীলংকায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্য।

সমুদ্রপথে পরিবহন কাছে ও সুবিধাজনক হওয়ায় ভারতীয় রফতানিকারকরা সাধারণত তাদের পণ্যের চালান বন্দর থেকে জাহাজের মাধ্যমেই শ্রীলংকায় পাঠান।

চিনির ক্ষেত্রে শ্রীলংকা ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। রফতানিকারকদের কাছে দেশটি কলকাতার বাজারের একটি এক্সটেনশন নামেও পরিচিত। প্রতি মাসে ভারতের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টন চিনি আমদানি করে দ্বীপরাষ্ট্রটি। দেশটির মোট আমদানীকৃত চিনির ৯০ শতাংশই আসে ভারত থেকে।

তবে তিন মাস ধরে বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার পর থেকে শ্রীলংকায় রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। এদিকে চলতি মৌসুমে রফতানির জন্য উদ্বৃত্ত কোনো চিনি অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন এমইআইআর কমোডিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহিল শেখ। তিনি বলেন, সরকার এ বছর চিনি রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে শ্রীলংকায় চিনি রফতানির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

তথ্য বলছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত বেশির ভাগ ক্রেডিট লাইন (এলওসি) জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে ব্যয় করেছে শ্রীলংকা।

এদিকে চিনির পর যে পণ্যটির বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে সেটি হলো পেঁয়াজ। সংকট শুরুর পর থেকে শ্রীলংকায় মসলাপণ্যটি রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। অথচ ২০২১-২২ মৌসুমেও ভারত শ্রীলংকার বাজারে ১৬ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করেছিল।

পাঠকের মতামত: