ঢাকা,শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

চলতি মূলধন সংকট মেটাতে ঋণ নেবে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক

আর্থিক সংকট কাটাতে ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিরামিক খাতের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গতকাল অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ।

কোম্পানিটি আর্থিক সংকটে পড়ার পেছনে চারটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে। সেগুলো হলো ২০১৯-২০ হিসাব বছরে গ্লস্ট কিনের পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস আংশিকভাবে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০১৯ সালে করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লকডাউনের সঙ্গে সংগতি রেখে কোম্পানিটির কারখানা ও মার্কেট তিন মাস বন্ধ রাখা হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও একই সঙ্গে কার্গো ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের বন্যাও সিরামিক পণ্যের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ৬৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ টাকা ৭২ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৪ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ টাকা ৩২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৭২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ৫৬ পয়সা।

এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৯ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পায় কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৮ হিসাব বছরে ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। ২০১৭ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৬ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৫০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে রয়েছে ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও ৬৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ১৪৫ টাকা ৯০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১২২ টাকা ও ২৬৭ টাকা ২০ পয়সা।

পাঠকের মতামত: